الجمعة، 8 أبريل 2016

দুর্জয় আশরাফুল ইসলামের কবতা সমগ্র

১.
দৃশ্যের অন্তরালেও বাজে বিরহী দিনের সুর
যারা আসে খড়গ হাতে শান্ত নদীর পাশে
দিয়ে যায় ঘুমন্ত হাওয়ার বুকে বন্য গর্জন,
লোলুপ প্রতিহিংসার আড়ালে তাদেরও -
ছিলো কি খন্ডিত অনাবাদী মন? সব আজ
পাথর হয়েছে, যেন ছায়ার প্রতি বিমুখতা -
প্রান্তর তলে নিদ্রা গেছে দ্বৈতগীতের রণ।
একবার যেন কেঁপে উঠে সব দূর বাঁশরী
পাহাড়ের স্তব্দতা থেকে বেরোয় আহ্বান
যেন মেঘের সাঁকো মিলায়ে আসে সবুজ
সব ভুল সব রক্তচক্ষু পরিগণিত অবুঝ !

২.
নাগরিক সন্ধ্যেবেলায় হু হু করে বৃষ্টি এলে -
আটকে পড়ে ঘরে ফেরার আকুতিপ্রবণ মানুষ
তাদের জড়োসড়ো চোখ ধরে নামে ঘন রাত্রি।
অকাল বর্ষাতে থেমে যায় কল্পিত যৌথ উৎসব।
তুমি কি শুনেছো তৎকালে উড়ন্ত সন্ত্রস্ত ভাষা -
উত্তরিত ডানার নিচে চাপা পড়েছে আরো মানুষ
যাদের সমস্ত আকুতি স্বপ্নঘোর একেবারে গেলে
বারবার দুলে উঠে বোকাবাক্সের রং পেন্সিল,
আর ফাটা রেকর্ড অবিরত শোনায় উন্নয়ন তর্ক।

৩.
পাথরের মুখ থেকে বৃষ্টিঝর্ণা এনে আমি সমস্ত উঠোন ছড়িয়ে রাখি
আর ভাবি, ওই বুঝি বৃষ্টিজলে মুখ ধরে তার,
যেন ওই মুখ দেখবে বলে শতবর্ষী ঘর নিজেও খুলে বসে দরোজা
আমি দরজার পাশ ঘেষে, প্রতীক্ষা পুরাণের মুখোমুখি
ঝনঝন করে উঠে ঘর গ্রন্থি, আমাদের ভাষা হারিয়েছে যদিও -
ভালোবাসা, অকাল বৃষ্টির মতো বহ্নিমান সমস্ত শিরদাঁড়া ধরে যার
কোনদিন কি জেনেছে, প্রতীক্ষা ক্রমশ দেহাতি নদীর বুকে শিল্প করে
সন্তর্পন মধ্যরাতে কান্না করে, আকাশ শূন্যে লিখে অবিরত সে নাম।

৪.
সমস্ত বঞ্চনার শেষে গোপনীয়তা নির্ঝঞ্চাট বসে
রাখে সমগোত্রীয় হাত, আকুতি সব নিপাত যাক
সমস্ত শরীর ঠান্ডা পারদ, মুখাবয়বে রক্ত রঙ,
আহা অসংগতি, আহা অনুত্তেজক বরণ -
এইখানে শুরু হলো পতঙ্গের জীবনাচরণ শাদা
ফিরে যাবো অনুল্লাসে আহত জ্যোৎস্নার রাতে
আদিম দেবদারুর বনে, স্তব্ধ বর্ণে চিরদিন একা।

 পড়ে রবে অছন্দ কিছু অন্তমিলহীন কাগজ পাতা
কীটদংশে শুকিয়েছে সেও, পুষ্পিত গন্ধ উর্ধ্বে রাখা..

৫.
শাণিত প্রতিবাদ কন্ঠে দুর্বার এই দেশ কতবার হয়েছে
নৈমত্তিক সূর্যাস্তের নিচে তার নির্ঘন্ট আমরা রাখিনি।
আমরা কেবল আশাবাদের কবিতায় ভরিয়েছি আকাশ,
ছা-পোষা দিনের শেষে দাঁড়িয়ে মেলে ধরেছি দু হাত,
শব্দ তুলোর বেড়াজাল এমনি ছড়াবে বলেছি বারবার।
তারপর প্রতিবার সন্ধ্যা ফুরায়, ফিরে আসে অমোঘ রাত,
আমরা ভাবিনি কেন এত অন্ধকার, জোনাকিদের অসুখ
কিংবা হাতকড়া পরে তারা করছে কি কারাগার বাস?
আমরা ঘুমোই, কেবলই ঘুমোই, অলীক স্বপ্নের ভিড়ে
যতক্ষণ না হারাচ্ছে বিগত প্রতিবাদের সুবাস!
এইভাবে আমরা স্বপ্নভূক নতুন বিলাসী, সদা কন্ঠস্বর
এইভাবে আমরা স্মৃতি অতিক্রান্ত করি, কার্বলিকের পর।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: