৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী আসাদের শহীদ হওয়ার দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে "শহীদ আসাদ পাঠাগার" উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২০ জানুয়ারি) বিকাল ০৩:০০ টায় নবনির্মিত এ পাঠাগারটি উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মাকসুদ কামাল।
১৯৬৯ সালের ২০ই জানুয়ারী পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে বাংলার ছাত্র সমাজের ১১দফা দাবির মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আসাদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহিদুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
উদ্বোধনকালে উপ-উপাচার্য বলেন, আসাদ নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে আমাদের মুক্তির আন্দোলনকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এমন একজন ব্যক্তির স্মরণে পাঠাগার স্থাপনকে সাধুবাদ জানান তিনি।
আসাদের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আসাদ ছিলেন নসত্তরের টার্নিং পয়েন্ট৷ ৫ টি মামলা মাথায় নিয়েও এতটুকু বিচলিত হননি তিনি। একটি জাতিরাষ্ট্র উপহার দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করে তিনি নিজের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন। এটি হচ্ছে বীরের মৃত্যু। এই মৃত্যু সফলতার আসন। হয়তো অল্প বয়সে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন কিন্তু ইতিহাস যতদিন লিপিবদ্ধ থাকবে ততদিন আসাদের নাম থাকবে।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিম বলেন, আসাদ বর্তমান ছাত্রদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। পাঠাগারটি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান- বিজ্ঞান ও ইতিহাস চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আসাদের ছোট ভাই ডা. নুরুজ্জামান হক। তিনি ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার ভাই এই হলে( ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ হল) অর্ধ যুগ ছিলেন। আসাদ ভাই সেদিন নিজেকে ও তার পরিবারকে উপেক্ষা করে নিজ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিল। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে সেরা দশজন অগ্রনায়কের মাধ্যে আসাদ ছিলেন একজন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভূইয়া,
ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহ্ মো. মাসুম এবং ডাকসুর হল সংসদের সাবেক নেতৃবৃন্দ।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ত্ব করেন অত্র হলের প্রাধ্যক্ষ ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার। ১২০ আসন বিশিষ্ট এ পাঠাগারটি শিক্ষার্থীদের ইতিহাস চর্চায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন শহীদুল হল ছাত্র সংসদের সাবেক নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও এটি শিক্ষার্থীদের পাঠাগার সংকট অনেকাংশে কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন তারা।
শেয়ার করুন



0 coment rios: